শহরের শেষ প্রান্তে ছোট্ট একটি বাসা।
জানালার পাশে বসে প্রতিদিন বিকেলে বৃষ্টি দেখত মায়া। বৃষ্টি তার খুব প্রিয়—কারণ বৃষ্টির শব্দে সে নিজের কষ্টগুলো লুকাতে পারত।সেদিনও বৃষ্টি হচ্ছিল। হঠাৎ জানালার ওপারে চোখ পড়ল একটি ছেলের দিকে। ভিজে জামা, কাঁধে ব্যাগ, রিকশার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। অদ্ভুতভাবে ছেলেটার চোখে এক ধরনের নীরবতা ছিল।পরদিন আবার দেখা। তারপর প্রায় প্রতিদিন। কেউ কাউকে চিনত না, তবু চোখে চোখে অদ্ভুত এক পরিচয় হয়ে গেল।একদিন সাহস করে মায়া নিচে নামল।— “বৃষ্টি হলে আপনি এখানেই দাঁড়ান কেন?”ছেলেটা একটু হেসে বলল,— “বাড়িতে কেউ অপেক্ষা করে না। বৃষ্টিতে দাঁড়ালে একা লাগেনা।”ছেলেটার নাম আরিফ। সে একটি ছোট চাকরি করে, স্বপ্ন দেখে নিজের একটা বই প্রকাশ করবে। মায়া অবাক হয়ে শুনল—কারণ সেও গল্প লিখে, কিন্তু কাউকে কখনো বলেনি।ধীরে ধীরে তাদের দেখা হতে লাগল। চায়ের দোকানে, ফুটপাথে, বৃষ্টির নিচে। ভালোবাসা তারা কখন এলো, কেউ টের পেল না।একদিন আরিফ বলল,— “জানো, আমি সফল না। তবু তোমাকে ভালোবাসি।”মায়া জানালার দিকে তাকিয়ে বলল,— “আমি জানি। সফলতার আগে মানুষটা দরকার।”কিন্তু জীবন সহজ না। আরিফকে শহর ছাড়তে হলো কাজের জন্য। যাওয়ার দিন বৃষ্টি হচ্ছিল না। আকাশ পরিষ্কার, অথচ বুকের ভেতর ঝড়।অনেক বছর পর, সেই জানালার সামনে আবার মায়া দাঁড়িয়ে। এবার হাতে একটি বই—লেখক: আরিফ রহমান।হঠাৎ দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ।দরজা খুলতেই পরিচিত চোখ।আরিফ বলল,— “বৃষ্টি নেই, তবু কি আমি দাঁড়াতে পারি?”মায়া হাসল।এইবার জানালার ওপারে নয়—একই ঘরে।শেষ।
Leave a Reply