রাত বারোটার পর শহরটা অন্যরকম হয়ে যায়। শব্দ কমে, মানুষ কমে—কিন্তু অনুভূতিগুলো জেগে ওঠে। সেই সময়েই নীলা ছাদে উঠে আসে প্রতিদিন।
একই ছাদে আসে একজন অচেনা ছেলে। নাম জানা নেই, পরিচয়ও না। শুধু পাশাপাশি বসে তারা আকাশ দেখে।
প্রথম দিন কেউ কথা বলেনি।
দ্বিতীয় দিন শুধু একটি “ভালো আছেন?”
তৃতীয় দিন হাসি।
দিন যেতে যেতে কথা বাড়ে। জীবন, কষ্ট, স্বপ্ন—সব। কিন্তু নাম জিজ্ঞেস করা হয়নি কখনো। যেন নাম জানলে সম্পর্কটা ভারী হয়ে যাবে।
এক রাতে নীলা বলল,
— “যদি একদিন আর না আসি?”
ছেলেটা চুপ করে বলল,
— “তাহলে এই আকাশটাই তোমার কথা মনে করিয়ে দেবে।”
সেদিন নীলা কেঁদেছিল। কারণ সে জানত, তার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। এই ছাদে আসা তার শেষ কদিন।
শেষ রাতে নীলা বলল,
— “আমার নাম নীলা।”
ছেলেটা হেসে বলল,
— “আমি আরাফাত।”
নীলা উঠে দাঁড়াল।
— “আজ শেষ।”
আরাফাত কিছু বলল না। শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকল।
বছর কেটে গেল।
একদিন আকাশচুম্বী এক অফিস বিল্ডিংয়ের লিফটে দুজনের দেখা। চোখে চোখ। চেনা মুখ, অচেনা জীবন।
আরাফাত বলল,
— “এই আকাশটা কি এখনো দেখো?”
নীলা মুচকি হেসে বলল,
— “প্রতিদিন।”
লিফট থামল। দরজা খুলল।
এইবার তারা পাশাপাশি হাঁটল—ছাদ নয়, জীবনের পথে।
শেষ।
Leave a Reply